
হিমালয় অঞ্চলের একটি নদীতে পাহাড় ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনো দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নেপালে ৩৯২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া চীনের তিব্বত অংশে আরও তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
নেপালের পর্যটন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪টি দেশের ৬৬৮ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন, কানাডার ২৫ জন এবং চীনের ১০০ জন নাগরিক রয়েছেন।
অন্যদিকে, তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে উদ্ধার কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক ও সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলোকে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সড়কপথে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
আক্রান্তদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য কাজ করছেন। সরকারি ও বেসরকারি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গতদের উদ্ধার এবং ভারত থেকে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এরই মধ্যে আপার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুরঙ্গে আটকে পড়া ৩৫০ শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক গবেষণায় জানা গেছে, হিমবাহের বরফ ও পাথর ধসে লেন্দে নদীতে একটি প্রাকৃতিক বাধা তৈরি হওয়ার পর আকস্মিক এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূকম্পন তরঙ্গও সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বন্যায় ১৫টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী বিহার, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতিসংঘ ২০ লাখ ডলার, যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া ৩৬ লাখ ডলার জরুরি সহায়তা পাঠাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাদের স্যাটেলাইট ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দুর্গতদের জন্য ওষুধ পাঠিয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ সুনীল আচার্যের মতে, হিমালয় অঞ্চলের এই দুর্যোগ জলবায়ু সংকটের ভয়াবহতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।