
জাতীয় সংসদের আসন্ন নির্বাচনে নাটোর জেলায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত ছয়জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর ফলে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে চূড়ান্তভাবে ২৫ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক পাওয়ার পরদিন, ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, যা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নাটোরে পাঁচজন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি আরও একজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সব মিলিয়ে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় জেলার চারটি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে।
মঙ্গলবার দিনব্যাপী নাটোর জেলা প্রশাসক ও সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহিনের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা উপস্থিত হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন।
কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, জোটগত আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে নাটোর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাইদুর রহমান দুপুরে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। একই কারণে জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের প্রার্থী টিংকু সরকারও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
অন্যদিকে নাটোর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর পক্ষে মাঠে কাজ করার ঘোষণা দেন। একই আসনে জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ড. আজাবুল হক এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী এ এস এম মোকাররেবুর রহমান নাসিম।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি নাটোর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি।
মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে নাটোর-১ আসনে চূড়ান্তভাবে ৯ জন, নাটোর-২ আসনে ৬ জন, নাটোর-৩ আসনে ৫ জন এবং নাটোর-৪ আসনে ৫ জন প্রার্থী ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন।
উল্লেখ্য, মনোনয়ন প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আজ বুধবার প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নাটোরে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই জেলাজুড়ে শুরু হবে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।