
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শুরুর একাদশে কি থাকবেন নেইমার?
৩৪ বছর বয়সী এই তারকা গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। তবে জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২ রাউন্ডের ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। হাইতির বিপক্ষে চোটের কারণে মাঠের বাইরেই ছিলেন।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের ফিটনেস নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেও প্রথম একাদশে তার থাকা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি।
তিনি বলেন, “নেইমার এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একসঙ্গে খেলতে পারে এবং খেলবেও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে এখন খেলার জন্য প্রস্তুত। যখন মনে করব দল তাকে প্রয়োজন, তখনই তাকে মাঠে নামাব। সে ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত।”
তবে শুরুর একাদশে নেইমার থাকবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেননি ইতালিয়ান এই কোচ। গ্রুপ পর্বের আগেও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও জাপানের বিপক্ষে নেইমারকে শুরু থেকে খেলাননি।
তবে ব্রাজিলের কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি, নরওয়ের বিপক্ষে প্রথম একাদশেই দেখা যেতে পারে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডকে।
এদিকে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছে, “টিক-টক... ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই প্রায় চলে এসেছে।”
নেইমারের বর্তমান মানসিক অবস্থা নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে সে খুশি নয়, কিন্তু দারুণ আচরণ করছে। অসাধারণ অনুশীলন করছে। সে ভদ্র, বিনয়ী এবং সতীর্থদের কাছে খুবই প্রিয়। একজন ফুটবলার হিসেবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানুষ হিসেবেও সে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি তাকে নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “অবশ্যই সে খেলতে চায়, যেমন সব সময়ই চেয়েছে। সে কখনো এসে আমাকে জোর করে খেলার সময় চায় না। তবে এটা পরিষ্কার যে সে মাঠে নামতে চায়। কোনো খেলোয়াড়ই বেঞ্চে বসে সুখী থাকার কথা নয়।”
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হলেও এবারের বিশ্বকাপে আনচেলত্তির অধীনে নেইমারের ভূমিকা এখন পর্যন্ত সীমিত। মরক্কো ও জাপানের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে কাটিয়েছেন, আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন মাত্র ১৪ মিনিট।
তবে নকআউট পর্বের চাপের ম্যাচে নেইমারই হতে পারেন ব্রাজিলের ‘গেম চেঞ্জার’। অনেকের মতে, ব্রাজিলের জার্সিতে এটিই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। যদিও সাম্প্রতিক চোট, ফর্মহীনতা এবং দলে প্রতিযোগিতা তার নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।