
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার ভয়াবহ অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
বৃহস্পতিবার নেত্রকোণার মদন আমলি আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মোহসিনা ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী তাকে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন বলে নিশ্চিত করেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা সোহরাওয়ার্দী।
মামলার নথি অনুযায়ী, আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রতিষ্ঠানের ১১ বছরের এক শিক্ষার্থীকে তিনি একাধিকবার ধর্ষণ করেন, যার ফলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে চিকিৎসা নিতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলেও শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাকে মদন থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দায়ের করা মামলায় বলা হয়, গত ২৩ এপ্রিল সাগর এবং তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে মামলা করা হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অর্থের প্রস্তাব ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছিল।
মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসা বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের মধ্য থেকেই এমন অভিযোগ সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে এবং মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।