
নোয়াখালীর চাটখিলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১১টি পদের মধ্যে ৭টি পদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি পদগুলোর মধ্যে ৩টিতে বিএনপি এবং ১টিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মতিন ভোট গণনা শেষে বিকেলে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কোনো প্রার্থী ছিল না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সমিতির মোট ৭৯ জন ভোটারের সবাই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অর্থাৎ নির্বাচনে শতভাগ ভোট কাস্ট হয়েছে। ১১টি পদের বিপরীতে মোট ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
উল্লেখ্য, চাটখিল দলিল লেখক সমিতির সবশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১২ সালে। এরপর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের (আধা-সরকারি পত্র) মাধ্যমে পকেট কমিটি গঠন করার কারণে দীর্ঘ ১৪ বছর সাধারণ সদস্যরা ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস প্রাঙ্গণে প্রার্থী ও সাধারণ সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
সভাপতি পদে বিএনপি, সাধারণ সম্পাদক আ.লীগ
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জি এম ওমর ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. স্বপন পাটওয়ারী বিজয়ী হয়েছেন।
শীর্ষ পদগুলোর ভোটের পরিসংখ্যান,
সভাপতি: বিএনপি সমর্থিত জি এম ওমর ফারুক ৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সফিউল বাশার শেখ পেয়েছেন ৩৪ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক: তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই পদে সাতজনের লড়াইয়ে মো. স্বপন পাটওয়ারী ২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলমগীর হোসেন ১৬ ভোট ও মনির হোসেন মাহী ১৪ ভোট পেয়েছেন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি: মাহবুবুল আবরার ৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
সহ-সভাপতি: মো. আবুল কালাম ৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সহ-সাধারণ সম্পাদক: মো. আবদুর রহিম ৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক: মিজানুর রহমান ৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
কোষাধ্যক্ষ: ইমাম হোসেন মুরাদ ৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
দপ্তর সম্পাদক: আনিছুর রহমান সজীব ৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যকরী সদস্য: ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথম তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন— নূরুজ্জামান (৫৪ ভোট), রহমত উল্যাহ (৪২ ভোট) এবং আবদুল মন্নান কাওয়াল (৪০ ভোট)।
একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার
দীর্ঘদিন পর ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে পেরে সাধারণ ভোটাররা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ফলাফল ঘোষণার পর দলীয় ভেদাভেদ ভুলে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি চাটখিল দলিল লেখক সমিতির উন্নয়ন, লেখকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও সাধারণ সদস্যদের অধিকার রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।