
রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে এক নারী পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজিয়া সুলতানা মিম (২৮) নামে ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাজিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এর আগে দক্ষিণখানের কসাইবাড়ি এলাকার বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাজিয়া সুলতানা মিম উত্তরা হেডকোয়ার্টার এপিবিএন–এ কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে। তিনি মো. নাসির উদ্দিন বাচ্চুর মেয়ে।
দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজিয়া দক্ষিণখানের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার স্বামী রাজীব মিয়াও একজন পুলিশ কনস্টেবল, যার কর্মস্থল ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে এলাকা। রাজীবের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায়।
এসআই পলাশ আহমেদ আরও জানান, রাজিয়ার স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে রাজিয়া তার আইফোন ভেঙে ফেলেন। এর আগেও তিনি একটি ভিভো ফোন ভেঙে দিয়েছিলেন। এ ঘটনার পর রাত ৯টা ২০ মিনিট থেকে ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে যেকোনো একসময় ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেন রাজিয়া। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পেরে রাজীব তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক মধ্যরাতে রাজিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে কনস্টেবল রাজীব মিয়ার বন্ধু শামীম আল মাহীন জানান, পুলিশে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রশিক্ষণকালে রাজীব ও রাজিয়ার পরিচয় হয় এবং সেখান থেকেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় পাঁচ বছর আগে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে রয়েছে ১৯ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান।
কর্মস্থলের কারণে রাজিয়া ঢাকার দক্ষিণখানে থাকতেন এবং রাজীব ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অবস্থান করতেন। তবে রাজীব নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে স্ত্রীর কাছে আসতেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজিয়া আত্মহত্যা করেছেন—এমন খবর পেয়ে পরে হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন বলে জানান তিনি।