
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন চাচার কামড়ে এক ভাতিজার গোপনাঙ্গ রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুর প্রামাণিকপাড়ায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে ১৬ বছর বয়সী আহত তরুণ মাহফুজ ইসলাম প্রিয়র বাবা রাশেদ উন নবী বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবা আব্দুল জলিলের মৃত্যুর পর দুই ভাই রাশেদ উন নবী ও তার ছোট ভাই রাব্বী নিজেদের বাড়ির জায়গা সমান ভাগে ভাগ করে নেন। সম্প্রতি তারা বাড়ির মাঝখানে ইটের প্রাচীর দিয়ে আলাদাও হয়ে যান। এরপর রাশেদ উন নবী তার অংশে থাকা একটি ঘর সংস্কারের কাজ শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে রাশেদের ঘরের ‘সাম সাইড’ ভাঙাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে তীব্র কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই রাব্বী (৩১) ও তার স্ত্রী মেমি বেগম (২৫) লোহার রড নিয়ে রাশেদের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন এবং রাশেদ, তার স্ত্রী ও ছেলেকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করেন।
মারামারির একপর্যায়ে অভিযুক্ত রাব্বী তার আপন ভাতিজা প্রিয়র গোপনাঙ্গে সজোরে কামড় বসিয়ে দেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রিয় গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত হলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এই ধরনের নৃশংস ও অমানবিক ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আদমদীঘি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুল আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "বিষয়টি জানার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আহত তরুণের বাবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছেলের চিকিৎসা শেষ হলে তারা মামলা দায়ের করবেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চাচা রাব্বী ও তার স্ত্রী মেমি বেগম এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।