
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই তথ্য জানান। সভায় দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনের প্রচার থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত বা বানচাল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার যথাসময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। “যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই যেন তাদের ভেতরে ‘ফ্যাসিস্টের দোসরদের’ কোনো অনুপ্রবেশ না ঘটে।”
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে সতর্ক করেন, “এ ধরনের অপরাধে কেউ সহযোগিতা করলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।” এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, “শিগগিরই চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। জড়িতদের নাম দ্রুত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।”
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা সরকারের অঙ্গীকার।”