
ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামোর চাপ সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত পেট্রোল বা গ্যাসোলিন রপ্তানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি নতুন ডিক্রি জারি করে রুশ সরকার। নতুন নির্দেশনায় শুধু মধ্যস্বত্বভোগী নয়, তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে কেবল অনুৎপাদক বা ট্রেডিং কোম্পানিগুলোর ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তা সংশোধন করে উৎপাদক কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও মঙ্গোলিয়ার মতো যেসব দেশের সঙ্গে রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সরকারি চুক্তি রয়েছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
রুশ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সামনে বসন্তকালীন কৃষি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা—এই দুই কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও শোধনাগারগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর ফলে দেশটির তেল রপ্তানির সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কমে গেছে।
বিশেষ করে বাল্টিক সাগর উপকূলের উস্ট-লুগা ও প্রিমোর্স্ক বন্দরে ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধাক্কা দেয়। গত মার্চে রপ্তানি সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেলেও বর্তমানে তা কিছুটা উন্নতি হয়ে ২০ শতাংশে নেমেছে, তবে পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল।
রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের ভেতরে তেলের মজুত দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রপ্তানির পথ সীমিত হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত সরবরাহ এড়াতে শিগগিরই উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারেন রুশ উৎপাদকরা।
যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়া তাদের মোট গ্যাসোলিন উৎপাদনের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করত। এই সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে আগামী রবিবার ওপেক প্লাস জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তেল উৎপাদনের মাত্রা নিয়ে আলোচনা হবে। বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে এর আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ ওপেক প্লাস জোট এপ্রিল মাসে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর পরপরই নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং ওপেকের আসন্ন সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: মস্কো টাইমস