
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। তবে এই আয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে তারা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ভারতের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তারেক রহমানের দল বিএনপির নেতারা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
তবে একই দিনে মুম্বাইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের নির্ধারিত সূচি থাকায় নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা কম বলে একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে। ম্যাক্রোঁ আগামী সপ্তাহে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নিতে ভারত সফরে আসছেন এবং তার সফর শুরু হবে মুম্বাই থেকে।
মোদি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না থাকলেও ভারতের পক্ষ থেকে একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। সম্ভাব্য প্রতিনিধিদের মধ্যে উপ রাষ্ট্রপতি বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে তাড়াহুড়া করে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী নয়, যদিও সম্পর্ক তলানিতে নেমে যাওয়ায় তা পুনরুদ্ধার করা এখনও ভারতের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে একই মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার সার্কভুক্ত অধিকাংশ দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করেছে। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারেক রহমানের বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পাশাপাশি চীন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ কয়েকটি ঘনিষ্ঠ দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ পাঠানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।
শনিবার তারেক রহমান বলেন, "তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে; এটি কোনও নির্দিষ্ট দেশভিত্তিক হবে না।"
এর আগে শুক্রবার তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম টেলিফোন আলাপে নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপির বড় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস