.jpg)
ফরিদপুরের মধুখালীতে ডিবি পুলিশের হেফাজতে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ (২৮) ওরফে প্রান্ত নামে এক ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত এসকেন্দার হায়দারের ছেলে এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, শনিবার (২০ জুন) বিকেলে বাড়ির সামনে থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল সদস্য প্রান্তকে আটক করে নিয়ে যায় এবং এ সময় তাকে মারধর করা হয়। পরে হেফাজতে নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিহতের মা খাদিজা আক্তার বলেন, “আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার সময় কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। পরে গাঁজা উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে। আমার সুস্থ ছেলেকে ধরে নেওয়ার পর কীভাবে তার মৃত্যু হলো, এর সঠিক তদন্ত চাই।”
অন্যদিকে ডিবি পুলিশের দাবি, শনিবার রাতে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করা হয়। পরে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাও দেওয়া হয়।
ডিবির ওসি মো. আলমগীর হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেন, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে ব্যাপক রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে। শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রান্তকে মাদকসহ আটক করা হয়েছিল। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা গেছেন। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।