
পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদ। অভিযোগের পর তাকে কারাভোগ, সামাজিক অপমান ও চাকরি হারানোর মতো চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে দীর্ঘ তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার পর সামনে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য, কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা ওই ইমাম নন, বরং তারই আপন বড় ভাই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ভুক্তভোগী কিশোরীর মা স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোজাফফরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এক মাস দুইদিন কারাভোগ করতে হয়। এ সময় তিনি মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর চাকরিও হারান।
পরে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে মোজাফফরের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এরপর নবজাতক শিশুর জৈবিক পিতা শনাক্তে নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে কিশোরী পুলিশকে জানায়, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিল। ভাইকে বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে ইমামকে ফাঁসানো হয়েছিল বলেও সে স্বীকার করে।
পরে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে তিনি বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষায় নবজাতক শিশুর সঙ্গে তার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ জৈবিক মিল পাওয়া যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ফলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মোরশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলা কারাগার-এ রয়েছেন।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, “ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর নিরপরাধ ব্যক্তির নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গভীর তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।”
মোজাফফর আহমদ বলেন, “অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। কিন্তু আমি সামাজিক অপমান, কারাভোগ ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছি। মামলার খরচ চালাতে জমি বিক্রি করতে হয়েছে।”
তার আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষাতেই সত্য প্রকাশ পেয়েছে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে তদন্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, বিশেষ করে ডিএনএ পরীক্ষার গুরুত্বও নতুনভাবে সামনে এসেছ