
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছনুয়া ডাকঘরে ডাকাতির ঘটনায় মামলা করার পর প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন পোস্টমাস্টার তারেক উল্লাহ চৌধুরী (৫৮)। নিরাপত্তাহীনতার কারণে গত এক মাস ধরে তিনি নিজের কর্মস্থলে যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
তারেক উল্লাহর দাবি, ডাকাতির ঘটনায় করা মামলার আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে আদালতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা লুট
ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বাঁশখালীর ছনুয়া ডাকঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে পোস্টমাস্টারকে জিম্মি করে তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। পরে ডাকঘরে রাখা নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতদল।
এ ঘটনায় ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক উল্লাহ চৌধুরী বাদী হয়ে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন।
পোস্টমাস্টারের অভিযোগ, মামলা করার পর থেকেই আসামিরা তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। প্রাণহানির আশঙ্কায় তিনি ১৪ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ছনুয়া ডাকঘরে যেতে পারছেন না।
চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে জিডি
হুমকির অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে জিডি করেন তারেক উল্লাহ চৌধুরী।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন ছনুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালামিয়ার ছেলে মোকাদ্দেছ (৫০), তাঁর ছেলে রাকিব (৩০), মোহাম্মদ আমজাদের ছেলে জাকের হোসেন (৪২) এবং মৃত বজল আহমদের ছেলে মো. কাদের।
তারেক উল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কর্মস্থলে গেলে হত্যা করা হবে বলেও তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এ কারণে প্রায় এক মাস ধরে তিনি ডাকঘরে যেতে পারছেন না।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার তাঁকে ছনুয়া ডাকঘরে না গিয়ে উপজেলা ডাকঘরে উপস্থিতি জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
হুমকির অভিযোগ অস্বীকার
পোস্টমাস্টারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোকাদ্দেছ। তাঁর দাবি, তাঁরা কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দেননি।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।