
আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধ করতে না পারলে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়িত্বে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, এ জন্য দুই মাস সময় দেওয়া হলো। এই সময়ের মধ্যে এলাকায় কোনো কিশোর গ্যাং রাখা যাবে না।
চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
পাথরঘাটায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি-সম্পত্তি দখলের মতো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না বলে জানান নূরুল ইসলাম মণি। ওসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে হয় ওসিকে দায়িত্ব ছাড়তে হবে, নয়তো চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সন্ত্রাসী ও দখলবাজদের পাথরঘাটায় থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে আউয়াল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন চিফ হুইপ। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন জায়গায় তাঁর নাম ব্যবহার করে কাজ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন। আউয়ালসহ আরও একজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামি হিসেবে দেখাতে ওসিকে নির্দেশ দেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো আশ্রয়স্থল থাকা উচিত নয়; অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয়ও বিবেচনায় নেওয়া যাবে না।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, কেউ তাঁর নাম ব্যবহার করে দখলবাজি বা অন্য কোনো অনিয়ম করলে তা তাঁকে জানাতে হবে। ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে বার্তা পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, রাতে তিনি বার্তা দেখেন।
এ সময় কোস্টগার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানায় দালালি বন্ধ করারও নির্দেশ দেন তিনি।
পাথরঘাটায় ট্রলিং বন্ধের নির্দেশ
সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলিং কার্যক্রম নিয়েও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন চিফ হুইপ। তিনি অভিযোগ করেন, রাত ১২টার পর ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলে ট্রলিং শুরু হয় এবং তখন বরফকলও চালু করা হয়।
দেশের অন্য কোথাও ট্রলিং চললেও পাথরঘাটায় তা হতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, বর্তমানে যারা পাথরঘাটায় ট্রলিং করছেন, তাঁদের এ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
কৃষকদের ঋণ মওকুফ প্রসঙ্গে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জীবনযাপন ও সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে ভাবনার কথা তুলে ধরেন নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন এবং চরাঞ্চলের জেলে ও কৃষকদের দুর্দশা, তাঁদের সংকট থেকে উত্তরণের উপায় এবং স্বাবলম্বী করার পথ নিয়ে চিন্তা করেন।
যেসব পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের বিয়ে দিতে পারে না, তাদের সহায়তার উপায় এবং দক্ষ তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর ভাবনায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কোনো তরুণও যখন চৌকিদারের চাকরি খোঁজেন, তখন তাঁর যোগ্যতা কাজে লাগানোর পথ বের করা প্রয়োজন।
নূরুল ইসলাম মণি বলেন, এসব চিন্তা থেকেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে দেশের কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের সুদসহ অর্থ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।