
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েলের বর্তমান নেতৃত্ব বিশ্বে নতুন এক ‘আগ্রাসী’ ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চাইছে, আর বিশ্বের অনেক দেশ তাদের থামাতে ব্যর্থ হয়ে ‘কাপুরুষোচিত’ আচরণ করছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেন।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব নেতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে এমন এক নীতির দিকে বিশ্বকে ঠেলে দিচ্ছেন, যেখানে কূটনীতির বদলে শক্তি ও যুদ্ধকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
অ্যাগনেস ক্যালামার্ড সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক সংকটময় সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা গত ৮০ বছরে গড়ে ওঠা বহু আন্তর্জাতিক কাঠামো ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালজুড়ে ট্রাম্প, পুতিন, নেতানিয়াহুসহ বিভিন্ন নেতা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি ব্যবহার করেছেন।
অ্যামনেস্টির মহাসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নেতারা নিজেদের স্বার্থে মানবাধিকারের মৌলিক ভিত্তিকে দুর্বল করছেন। অথচ বিশ্বের অনেক সরকার, বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো, তাদের মোকাবিলার বদলে তোষণনীতির পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এই নতুন ‘আগ্রাসী’ বিশ্বব্যবস্থার সাম্প্রতিক উদাহরণ। একই সঙ্গে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনের শাসন দুর্বল করা এবং ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারী ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
তবে অ্যামনেস্টি তাদের এ তালিকায় চীনকে রাখেনি। সংগঠনটির মতে, চীন তুলনামূলকভাবে ‘বিবেচক’ আচরণ করেছে। যদিও একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, বেইজিং মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও রাশিয়াকে সমর্থন দিয়েছে।