
ঝিনাইদহ জেলায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জেরে অবশেষে বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহফুজ আফজালকে তাঁর পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক জরুরি দাপ্তরিক আদেশে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।
আইজিপি কর্তৃক জারি করা ওই আদেশে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মাহফুজ আফজাল জেলা পুলিশের কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নিকট অবিলম্বে নিজের দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেবেন এবং আজ শুক্রবারের (৫ জুন) মধ্যে তাঁকে পুলিশ সদর দপ্তরে সশরীরে রিপোর্ট করতে হবে। তবে প্রথাগত নিয়ম অনুযায়ী এই সরকারি আদেশে তাঁকে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
হঠাৎ এই প্রত্যাহারের নেপথ্যে জেলার আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঝিনাইদহ জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন মো. মাহফুজ আফজাল। কিন্তু তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কার্যকালেই জেলাজুড়ে বেশ কিছু মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় প্রশাসনকে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়।
তাঁর দায়িত্বপালনকালেই ঝিনাইদহে দুটি বড় ধরনের রাজনৈতিক খুন, গ্রামীণ ও সামাজিক দলাদলিকে কেন্দ্র করে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, খোদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটিও দেশজুড়ে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন)ও জেলায় এক ব্যক্তিকে ধর্ষণচেষ্টার অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার (গণপিটুনি) ঘটনা ঘটে। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব বড় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই মূলত তাঁকে আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জোর গুঞ্জন চলছে।