
পেট্রোলিয়াম লেভি বা জ্বালানির ওপর আরোপিত বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার করা না হলে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর চলমান বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান।
রোববার করাচির ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে জামায়াতের সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ সতর্কবার্তা দেন তিনি। বক্তব্য শেষে ট্রেনমার্চে অংশ নিয়ে ইসলামাবাদের উদ্দেশে দলের প্রতিবাদ মিছিলে রওনা হন নাঈমুর রহমান।
ইসলামাবাদ অভিমুখে ট্রেনমার্চ
নাঈমুর রহমান জানান, তাদের মিছিল হায়দরাবাদ, লান্ডি, নওয়াবশাহ, রোহরি ও সুক্কুর হয়ে ইসলামাবাদের দিকে যাবে।
ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর আন্দোলনে ‘আমাদের বোনদের’ও যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হবে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি ও জাতিকে একটি জায়গায় একত্রিত করার চেষ্টা করছে।
চলমান বিক্ষোভকে তিনি ‘বিপ্লবী সংগ্রাম’ হিসেবেও বর্ণনা করেন।
সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে নাঈমুর রহমান বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে মানুষ ইসলামাবাদের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।
এই মিছিলের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ওপর থাকা চাপ কমানোর কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, যেসব মানুষ অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে পারেন না, তারাও বর্তমান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।
নাঈমুর রহমানের অভিযোগ, মানুষের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো জাতিকে।
তিনি বলেন, ‘মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের খারাপ শাসনের মূল্য জাতিকে দিতে হবে।’
পেট্রোলের দাম ২০০ রুপিতে নামানোর দাবি
জামায়াত আমির বলেন, লেভির নামে যে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। তাঁর দাবি, এটি করা হলে পেট্রোলের দাম দ্রুত কমে প্রতি লিটারে প্রায় ২০০ রুপিতে নেমে আসবে। এতে অর্থনীতিও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাঈমুর রহমানের দাবি, এই অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় পাকিস্তান সরকার পেট্রোলের দাম বেশি বাড়িয়েছে।
সংকটের সময়ে সরকার সাধারণ মানুষকে ‘লুট’ করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে ক্ষোভ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর চড়া দামের সমালোচনা করে নাঈমুর রহমান পেট্রোলিয়াম, গম ও চিনি শিল্পকে ‘মাফিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘এই কার্টেল পাকিস্তানের মানুষকে লুট করছে। আমরা যদি এটা সহ্য করতে থাকি, তাহলে তারা আমাদের আরও লুট করবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, রাস্তায় নামার আহ্বান
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ জানিয়ে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে ঘর থেকে বেরিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাঈমুর রহমান বলেন, ‘গত ৩৬-৩৭ দিন ধরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে।’
তিনি জানান, বর্তমানে হায়দরাবাদ, সুক্কুর, মিরপুর খাস, লারকানা, নওশাহরো ফিরোজ, রাওয়ালপিন্ডি, গুজরাট এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে।
তাঁর দাবি, ‘জামায়াতে ইসলামী পুরো পাকিস্তানকে সংগঠিত করেছে।’
নাঈমুর রহমান আরও বলেন, কোনো বাধা দিয়েই বিক্ষোভকারীদের থামানো সম্ভব হবে না।
লেভি বহাল রাখা হলে বিক্ষোভ আরও তীব্র হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সরকারকে হটানোর আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ইসলামাবাদে পৌঁছাব, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
সরকার আন্দোলন দমনের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।
প্রতি লিটারে ১০০ রুপির বেশি লেভি
জ্বালানি লেভি বাতিলের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। বর্তমানে এই লেভির পরিমাণ প্রতি লিটারে ১০০ রুপিরও বেশি।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, দলটির আমির নাঈমুর রহমানের নেতৃত্বে করাচি থেকে শুরু হওয়া ‘ট্রেন মার্চ’ রোববার রাতে রোহরি ও সুক্কুরে পৌঁছাবে।
সেখানে রাত ৮টায় একটি সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিক্ষোভকারীরা সোমবার মুলতানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।