
বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীদের অদম্য সাহস ও কড়া নজরদারির মুখে জামালপুর সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন করার আরও একটি ভারতীয় চেষ্টা ভেস্তে গেছে। মধ্যরাতের অন্ধকারে পুশ-ইনের উদ্দেশ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তে মানুষ জড়ো করলেও, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং সাধারণ মানুষের যৌথ প্রতিরোধের কারণে অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানব অনুপ্রবেশ ঘটানোর সেই মিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত রহিমপুর সীমান্ত এলাকায় এই পুশ-ইনের অপচেষ্টা চালায় বিএসএফ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সীমান্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জের পাররামরামপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত রহিমপুর গ্রামের ঠিক বিপরীতে ভারতীয় সীমান্তের ১০৮০ নম্বর মেইন পিলারের কাছে বিএসএফের একটি ওয়াচ গেট বা ফটক রয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত মাঝরাতে হঠাৎ করেই ওই ফটকের কাছে মানুষ বোঝাই তিনটি সন্দেহভাজন ভারতীয় গাড়ি এসে থামে। গাড়িগুলোর চারপাশে বিপুলসংখ্যক বিএসএফ জওয়ানের তৎপরতা দেখে বাংলাদেশ প্রান্তের গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র সন্দেহ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুহূর্তের মধ্যে গ্রামের শত শত মানুষ লাঠি, সোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে নিয়ে বিজিবি জোয়ানদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্তে পাহারায় বসে যান।
সীমান্তের সেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে পাররামরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া বলেন, “আগের মতো মঙ্গলবার রাতেও গেটের কাছে ভারতের তিনটি গাড়ি অবস্থান নেয়। এতে অনেক লোকজন ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি নিজে গ্রামবাসীকে নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। পরে বিএসএফ কয়েকজনকে সীমান্তের কাছে নামিয়ে দেয়। তখন গ্রামবাসী এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং লাঠি নিয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। বিজিবির সঙ্গে শত শত গ্রামবাসীর তৎপরতায় পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।”
ইউপি চেয়ারম্যান আরও যোগ করেন, সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে রাতে গাড়িগুলো পিছু হটতে বাধ্য হলেও, বুধবার সকাল হতেই বিএসএফের পক্ষ থেকে আবারও সেখানে চারজন মানুষকে জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়া হয়। তারা বর্তমানে জিরো পয়েন্ট বা সীমান্ত রেখায় অবস্থান করছেন। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীর নিশ্ছিদ্র পাহারার কারণে ওই চারজন এখনও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পা রাখতে পারেননি।
রহিমপুরের পাশাপাশি একই জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়াকামালপুর সীমান্ত এলাকা দিয়েও বুধবার সকালে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে পুশ-ইন করার চেষ্টা চালায় ভারতীয় রক্ষীরা। কিন্তু সেখানেও আগে থেকে বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসী শক্ত অবস্থান নেওয়ায় বিএসএফের সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়। বর্তমানে ওই ভুক্তভোগী ব্যক্তি দুই দেশের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ইমাম হোসেন বলেন, “সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়েই পুশ ইনের চেষ্টা হচ্ছে। বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে পুশ ইন ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার সকালে ধানুয়াকামালপুর সীমান্তে মধ্যবয়সী একজনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তিনি নিজে সেখানে অবস্থান করছেন। তারা ওই ব্যক্তিকে ঢুকতে দেননি। ওই ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্তে অবস্থান করছেন।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার রাতেও জামালপুর সীমান্তের একাধিক সংবেদনশীল পয়েন্ট দিয়ে পুশ-ইন করার জোর তৎপরতা চালিয়েছিল বিএসএফ। তবে প্রতিবারই বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর দেশপ্রেম এবং অতন্দ্র সতর্কতার কারণে ভারতের সেই অবৈধ চেষ্টা মাঠেই মারা যাচ্ছে।