
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শিবিরকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের হামলা’ থেকে ছাত্রদল রক্ষা করেছে বলে দাবি করেছেন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। সকাল থেকে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জবি শাখা ছাত্রদল।
সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “শিবির জকসুর ব্যানার ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে যাচ্ছে। আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামে ইউজিসি চেয়ারম্যান সহ কজন ভিসি ক্যাম্পাস এ আসলে তারা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেস্টা করে, শিবির প্রোগ্রামের শুরু তে মব সৃষ্টি করে। তারা অডিটোরিয়াম এর গেইটে মবে অংশ নেয়।”
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বার বার আশ্বস্ত করে প্রোগ্রাম শেষ হলে তারপর কথা বলার জন্য কিন্তু তারা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেস্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং আমরা (ছাত্রদল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে তাদের প্রতিহত করি।”
ছাত্রদলের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ছাত্রদলে যে ধৈর্যর পরিচয় দিয়েছে তার জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের উপর ক্ষুব্ধ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হামলার হাত থেকে ছাত্রদল শিবিরকে রক্ষা করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে তারা এখনো ক্যাম্পাসে ডুকতে পারেনি।”
এসময় জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিবসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রদলের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বেলা পৌনে ১২টার দিকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ক্যাম্পাসে আসার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস ও জবি শিবির সভাপতি সহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এছাড়াও দুইজন সাংবাদিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহতদের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে তা ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর্যায়ে যায়।