
১৪৩৩ সনে ভোলার লালমোহন উপজেলার ছোট-বড় হাট-বাজার ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৭ কর্মদিবস পর্যন্ত ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
তবে ইজারায় ব্যাপক হারে ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বহুল প্রচারণাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। হাট-বাজার ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের কথা থাকলেও নীতি ভঙ্গ করে ৯টি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন ইউএনও। যার বেশিরভাগ পত্রিকা এ উপজেলায় আসেনা এবং যে দু-একটি আসে সেগুলো ২/৩কপি। যা বহুল প্রচারণার বেলায় অতীব নগণ্য।
অপরদিকে, হাট-বাজার ইজারা নীতিমালায় রয়েছে, দরপত্র দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিনের অন্যুন ১৫ দিন পূর্বে উপজেলার হাট ও বাজার সমূহের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, পৌরসভা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পোষ্ট অফিস, কমিউনিটি সেন্টার, সংশ্লিষ্ট হাট বাজার, পুলিশ ষ্টেশন, সাব রেজিষ্টার অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা ও জেলা সদর দপ্তরে অবস্থিত জনসমাগমহয় এমন অফিসসমূহে নোটিশ টাঙ্গাইয়া ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রচারের ব্যবস্থা করা, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন হাট বাজারের ক্ষেত্রেও অনুরুপ সংশ্লিষ্ট জনসমাগম হয় এরূপ অফিস সমূহে নোটিশ টাঙাইয়া প্রচারের ব্যবস্থা করা, ইজারা বিজ্ঞপ্তি নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এবং অধিকন্তু, কোনো হাট ও বাজারের সরকারি মূল্য ২৫ লাখ টাকার অধিক হইলে বহুল প্রচারিত একটি স্থানীয় পত্রিকা যদি থাকে এবং ২৫ লক্ষ টাকার অধিক হইলে বহুল প্রচারিত একটি জাতীয় ও একটি স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করার নির্দেশনা রয়েছে।
তবে লালমোহন উপজেলার ইজারার অদৃশ্য কারণে নীতিমালা মানেননি ইউএনও। ফলে বহুল ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থাক দূরের কথা, সংশ্লিষ্ট হাট-বাজারগুলোর সংগঠনের নের্তৃবৃন্দরাও এ ইজারার বিষয়ে জানেন না।
এ বিষয়ে আলাপকালে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাদেক স্বর্ণকার বলেন, বাজার ইজারা হয়েছে কীনা, হয়নি, তা আমরা জানিনা। বাজারে কোনও প্রচারণাও করা হয়নি। এগুলো গোপনে করে এবং গোপেনে একেকজনে নিয়ে যায়।
ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মঙ্গল সিকদার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মো. ইউসুফ মিয়া বলেন, ইজারার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে জানা নেই এবং আমাদের বাজারে কোন প্রচার প্রচারণা হয়নি।
লর্ডহার্ডিঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. ছারোয়ার বলেন, বাজার ইজারার বিষয় আমরা কিছুই জানিনা। এখানে কোনও মাইকিং কিংবা কোনও প্রচারণা করা হয়নি। তবে আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরও একইভাবে উপজেলা ও পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা দিয়েছেন ইউএনও। ফলে স্বল্প মূল্যে বাজারগুলো ইজারা হলেও হাতবদল হয়ে তা কোটি কোটি টাকা হয়ে গেছে। এতে একটি শ্রেণি আঙুল ফুলে কলাগাছ হলেও রাজস্ব হারিয়েছিল সরকার। এবারও একই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, মাইকিংয়ের জন্য অফিসের লোকজনকে বলা হয়েছে।
এদিকে ইউএনওর প্রচারবিমুখ ইজারা প্রদানকে একশ্রেণির জন্য পক্ষপাত উল্লেখ করে ইউএনওর কর্মকাণ্ডকে সরকারকে নামমাত্র রাজস্ব দেয়ার পায়তারা ও নিজের অদৃশ্য সুবিধা নিশ্চিত করছেন বলে অভিমত সচেতন মহলের। একইসঙ্গে ইউএনওর এসব কর্মকাণ্ড তদারকি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।