-6ac251769d6a2.webp)
চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের জনবলের চাহিদার মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরিতে জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বর থেকে ঢাকা দিয়ে শুরু হবে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম। পরে পর্যায়ক্রমে বিভাগ ও জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে তরুণদের জন্য দেওয়া অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে কর্মসংস্থান বাড়াতে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করা হচ্ছে।
মাহদী আমিন জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে গত ছয় মাস ধরে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে পরামর্শ করা হয়েছে।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে একদিকে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জনবলের চাহিদার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দুই পক্ষের তথ্য সমন্বয় করে একটি জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।
উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমবাজারে চাকরির চাহিদা ও চাকরিপ্রার্থীদের যোগ্যতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার পাশাপাশি মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা যুবক এবং নতুন গ্র্যাজুয়েটদেরও চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দেশজুড়ে নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। জেলা পর্যায়ে এসব মেলার মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করা হবে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সিভি লেখা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চাকরির সাক্ষাৎকার মোকাবিলার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান মাহদী আমিন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থাও করা হবে।
বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীরাও এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা পাবেন বলে জানান তিনি। চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী—উভয় পক্ষই এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, বিদেশে যেতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের পর তাদের সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কিংবা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
গত ৫ আগস্টের পর কলকারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, ওই সময়ের পর কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। তবে বিভিন্ন অপপ্রচারে যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, বাস্তবে বন্ধ হওয়া কারখানার সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম।
কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সময়ে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে এবং অনেক নতুন কারখানাও চালু হচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কতসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, আগামী ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় এ উদ্যোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।