
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড ফুচকা ও চটপটির প্লেটে বিপজ্জনক মাত্রার জীবাণু পাওয়ার তথ্য সামনে আসায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এক প্লেট চটপটিতে গড়ে প্রায় ৭ কোটি ই-কোলাই জীবাণু থাকতে পারে, যা সরাসরি মানবদেহে প্রবেশ করে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও খাদ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার স্ট্রিট ফুডে ই-কোলাই, সালমোনেলা ও ভিব্রিওসহ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। এসব জীবাণু মূলত মলমূত্রজাত দূষণ থেকে খাদ্যে প্রবেশ করে এবং ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিসসহ নানা অন্ত্রজনিত রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
গবেষকদের মতে, ফুচকা, চটপটি, আখের রসসহ জনপ্রিয় খাবারগুলোর প্রায় প্রতিটি নমুনাতেই বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছে। এক গবেষণায় দেখা যায়, এসব খাবারে জীবাণুর পরিমাণ ১০³ থেকে ১০⁷ সিএফইউ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশই এর মূল কারণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খাবার তৈরির পানি দূষিত, প্লেট ও বাসন ধোয়া হয় অপরিষ্কার পানিতে, খাবার খোলা অবস্থায় ধুলোবালু ও দূষণের সংস্পর্শে থাকে এবং একই তেল বারবার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিক্রেতাদের হাত ও ব্যবহৃত কাপড় থেকেও জীবাণু খাবারে মিশে যায়।
আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, কিছু গবেষণায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াও এসব খাবারে পাওয়া গেছে, যা চিকিৎসা জটিল করে তুলতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এভাবে দূষিত স্ট্রিট ফুড নিয়মিত খেলে শরীরে সংক্রমণ বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তারা মনে করছেন, নিয়মিত নজরদারি, বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ এবং ভোক্তাদের সচেতনতা ছাড়া এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। অন্যথায় জনপ্রিয় এই মুখরোচক খাবারই ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে।