
বাংলাদেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ঘটনাগুলোর বিচার করা হবে এবং দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান উপস্থিত ছিলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমরা ভয়াবহ এক কালো অধ্যায় অতিক্রম করেছি। বিগত সময়ে যারা গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সব ঘটনার বিচার করা হবে। আগামী দিনে একটি ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার উদ্যোগে ৩০ আগস্ট বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশেও বিগত বছরগুলোতে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বিএনপির বহু নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো সরকারি দল হিসেবে বিএনপি দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর এবারই প্রথম সরকারি দল হিসেবে দিবসটি পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দিবসটি পালনের আয়োজন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান তিনি। গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ‘গুম, বলপূর্বক গুম, অন্তর্ধান—যে নামেই আমরা ডাকি না কেন, এ ধরনের ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কখনো বাংলাদেশে সংঘটিত হবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার, আমরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই বিগত দিনে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিচার আমরা করব। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অভিযুক্তদের বিচার করা হবে। দেশের মানুষের দাবি—অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সেই শাস্তি কার্যকর করা। সরকার সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করছে।’
অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আটক রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগ নাকচ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আটক রাখা হয়েছে, এমন কথা বলার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে দেশে গুম বা নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটবে না। রাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।’