
গুমের বিচারে আলাদা অধ্যাদেশের প্রয়োজন নেই—এমন মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বিদ্যমান ট্রাইব্যুনাল আইনেই এ ধরনের অপরাধের বিচার করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘গুম অধ্যাদেশের আওতাধীন যে অপরাধটি ছিল, এরইমধ্যে ট্রাইব্যুনাল আইনে সেটি সংবিধিবদ্ধ ছিল। এ আইনে যে গুমের অভিযোগ বিচারের এখতিয়ার ছিল, সেখানে আরেকটি আইন ও ট্রাইব্যুনাল গঠন করার প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে আমার কাছে মনে হয়নি। অর্থাৎ গুমের বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনেই সম্ভব।’
গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল এবং তা ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গুম অধ্যাদেশ যদি বাতিল হয়ে থাকে এবং ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে ট্যাগ করে দেওয়া হয়, তাহলে আইনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ এই গুম অধ্যাদেশটা একটি অপ্রয়োজনীয় আইন ছিল বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে একীভূত হওয়াটা ভালো কাজ হয়েছে। এটি সঠিক ও যথার্থ হয়েছে।’
এদিকে, গুমের বিচারের পথ সুগম করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (সংশোধন) বিল ২০২৬’ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
এই সংশোধনের মাধ্যমে গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।