
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজধানীর অন্যতম প্রধান পশুর হাট গাবতলী পরিদর্শনে গিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে হাট পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি হাটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় কড়া নজরদারির আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানসহ সিটি কর্পোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিক্রেতা এবং রাজধানীর ক্রেতাদের কেনাকাটা স্বস্তিদায়ক করতে সরকার এবং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাটের সার্বিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সন্তোষজনক।”
তিনি আরও জানান, হাটে পশুর মূল্যের ওপর নির্ধারিত ৫ শতাংশ হাসিল আদায়ের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে। কেউ যেন অতিরিক্ত হাসিল আদায় করতে না পারে, সেজন্য রশিদের মাধ্যমে ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যাচাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে হাটে তৈরি হওয়া সাময়িক সমস্যা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বৃষ্টির কারণে হাটের কিছু জায়গায় সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের টিম কাজ করছে। হাটের যেসব স্থানে কাদা জমেছে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ইট, সুরকি ও বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে।”
হাটের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, কোরবানির হাটে মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি এবং জাল টাকা চক্রের জালিয়াতি রুখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। হাটে জাল ও নকল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনের পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
হাটের সার্বিক শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা বজায় রাখতে সিটি কর্পোরেশন, ইজারাদার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য হাটে আসা ক্রেতা, বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।