
রাজধানীর কদমতলীতে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত রাসেল (২৮) একটি রড উৎপাদনকারী কারখানায় কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের শত্রুতার জের ধরে তাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা দক্ষিণ রসূলপুর এলাকায়। তিনি আব্দুল মালেকের ছেলে।
নিহতের মা মাকসুদা বেগম জানান, সোমবার গভীর রাতে আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচ দেখে কদমতলীর মুন্সিখোলা নদীর পাড়ের সড়ক দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন রাসেল। এ সময় মো. হানিফ (৩০) ও তার সঙ্গে থাকা আরও ২-৩ জন তাকে ঘিরে ধরে রড ও কাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে গুরুতর আহত রাসেলকে নদীর পাড়ে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন অভিযুক্তরা।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে রাসেলকে দেখতে পান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার গভীর রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাকসুদা বেগম আরও বলেন, হানিফের সঙ্গে তার ছেলে রাসেলের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে নদীর পাড়ে ফেলে রাখা হয়েছিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক জানান, চিকিৎসকের বরাত অনুযায়ী রাসেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে কদমতলী থানা পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।