
খুলনার দৌলতপুর থানা এলাকায় ওমর ফারুক ওরফে রাব্বি (২৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহেশপাশা পশ্চিমপাড়া খুটিরঘাট এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত যুবকের মাথায় এবং বুকের মাঝখানে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
নিহত রাব্বি খুলনার খানজাহান আলী থানার জাব্দিপুর এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম শেখের ছেলে। তিনি দৌলতপুরে তাঁর মা ও বোনের সাথে বসবাস করতেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদুল ইসলাম জানান, আজ সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘেরের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে দৌলতপুর থানা ফাঁড়িতে খবর দেন। তথ্য পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাব্বির লাশ উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, মরদেহের পাশেই নিহতের মোবাইল ফোনটি পড়ে ছিল। পুলিশ ওই ফোনের সূত্র ধরে রাব্বির বড় বোনের কাছে কল করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে। ইতিমধ্যে নিহতের বাবাকে খুলনায় আসার জন্য খবর পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় জানান, প্রাথমিক আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, গত রাতের কোনো এক সময়ে তাকে গুলি করে হত্যা করার পর লাশটি এই মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিস্ফোরিত গুলির খোসা (কার্তুজ) উদ্ধার করেছে।
পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে নিহত রাব্বি স্থানীয় একটি সক্রিয় সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি গভীর যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনায় অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। চলতি বছরের ২২ মে পর্যন্ত (মাত্র ৫ মাসে) খুলনায় ১১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত বছর (২০২৪) জেলাটিতে মোট হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ৩৭টি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে প্রকাশ্য গুলি করে এবং এর সাথে স্থানীয় কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।