
দীর্ঘ সময় খাদ্যশস্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে সংরক্ষণে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। এ ক্ষেত্রে দেশটির প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব কথা বলেন আফরোজা খানম।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল খাদ্যশস্য আমদানি, দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য সংরক্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা, যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল দেশে পৌঁছেছে এবং এর মানও সন্তোষজনক ছিল। এ সময় তিনি পাকিস্তানের বাসমতী চালের প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে উল্লেখ করে আফরোজা খানম বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণ করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় বাংলাদেশের খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।
সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ফলে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও পারস্পরিক যোগাযোগ আগের তুলনায় সহজ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বিশেষ করে করাচিতে বসবাসরত মানুষ এ যোগাযোগের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন হাইকমিশনার। তিনি বাংলাদেশি পণ্যের জন্য পাকিস্তানের বাজারে আরও সুযোগ তৈরির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
ইমরান হায়দার জানান, পাকিস্তানে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও আনারসের চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের হাইকমিশনার।
জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের বাজার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করা যেতে পারে।
পারস্পরিক বাণিজ্য সহজীকরণ এবং কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তব বাণিজ্যে রূপ দেওয়া সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আফরোজা খানম।