
রাজনীতির নিষ্ঠুর বলি হয়ে সব হারিয়ে আজ শুধুই বেঁচে থাকার লড়াই করছেন রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার কোহিনুর বেগম (৪৭)। ২০১৮ সালের এক রাতের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও ছায়া। তৎকালীন সময়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া এই পরিবারটি আজ ওষুধ আর সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। কোহিনুর বেগমের স্বামী মোঃ ইয়াছিন। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চরম অসুস্থতায় ভুগছেন।
সংসারের চাকা সচল রাখতে কোহিনুর বেগমের স্বামী মোঃ ইয়াছিন একটি খাবার হোটেলে চাকরি করছেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে হোটেলের হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে যা পান, তা দিয়ে কোনো রকমে দিন কাটছে তাদের। তাদের একমাত্র সন্তান মোঃ আরেফিন হোসেন সাগর বর্তমানে কোরআনে হাফেজ পড়ছে। ছেলের সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই সমস্ত কষ্ট মুখ বুজে সহ্য করছেন এই দম্পতি। অতীতের সেই ভয়াবহ স্মৃতি তাড়া করে বেড়ায় কোহিনুর বেগমকে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালে যখন তার ঘরবাড়ি পুড়ে দেওয়া হয়। তখন থেকে তিনি অসহায় হয়ে পড়ে। স্বামী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কোহিনুর বেগম। তারা আরও জানান, এখনও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করতে পারিনি। বর্তমান সরকার যেন তার দিকে সহযোগিতার বাড়িয়ে দেন এই প্রত্যশা করেন তারা।
কোহিনুর বেগম জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার ৩নং ঘাগড়া ইউনিয়নের রাঙ্গীপাড়া এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মনিস্বপন দেওয়ানের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। আর এটাই ছিল তার অপরাধ। নির্বাচনের পর তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগের কিছু স্থানীয় নেতাকর্মী তার ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুধু ঘর পোড়ানোই নয়, তাকে নির্মমভাবে হত্যা করারও চেষ্টা চালানো হয়। সেই কঠিন সময়ে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল বিপুল ক্ষতির তুলনায় সামান্য।
শত নির্যাতন ও কষ্টের মাঝেও কোহিনুর বেগম তার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বর্তমানে তিনি ৩নং ঘাগড়া ইউনিয়নের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন সংগ্রামী নারী কোহিনুর বেগম। তিনি কান্না স্বরে বলেন, একমাত্র ছেলের পড়াশোনা শেষে একটি সরকারি বা সম্মানজনক চাকুরির ব্যবস্থা করা, যাতে পরিবারটি স্থায়ীভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে এবং ২০১৮ সালে তার ওপর হওয়া অমানুষিক হামলা এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
কোহিনুর বেগমের এই মানবিক আকুতি কি পৌঁছাবে প্রশাসনের দোরগোড়ায়? এক বুক আশা নিয়ে দিন গুনছেন রাঙ্গামাটির এই ভাগ্যাহত পরিবার।