
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বর্তমান সংকটকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, মাত্র ছয় মাসের সরকার এসে এই সংকট তৈরি করেনি। রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুতের কিছুটা সংকট রয়েছে, যা এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। তবে এই ছয় মাসের সরকার এসে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে এই জটিলতা তৈরি করেনি। তাই নীতিগত আলোচনা বাদ দিয়ে বিরোধী দল কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথের আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ।
রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে কাজে লাগাতে হবে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭৫-পরবর্তী অস্থির সময়ে জিয়াউর রহমান যেভাবে গ্রামগঞ্জে গিয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে নিয়েছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দল-মত নির্বিশেষে গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে মানুষকে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন।
বর্তমান সরকারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অনেকটাই সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে পুরোপুরি কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পাঁচ বছর যথেষ্ট না হলেও একটি মানসম্মত জায়গায় বাংলাদেশকে দাঁড় করানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন এসেছে বলেও মন্তব্য করেন নুরুল হক নুর। তার ভাষায়, আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারতনির্ভর বলে আলোচনা ছিল। তবে সেখান থেকে সরকার দৃঢ়ভাবে সরে এসেছে এবং এখন বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে নিজের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করছে।
এদিকে ২০২৮ সালের মধ্যে পটুয়াখালী ইপিজেড চালুর পরিকল্পনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিন বছরে প্রকল্পের ৪৭ শতাংশ কাজ এগিয়েছে। আগামী দেড় বছরে বাকি কাজ কতটা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে তার ব্যক্তিগতভাবে সংশয় রয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় না বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে বর্তমান সরকার। নিজের জেলা হওয়ায় প্রকল্পটির অগ্রগতি দেখতে তিনি সেখানে পরিদর্শনে এসেছেন বলেও জানান।
ইপিজেড চালু হলে পটুয়াখালীতে লাখ লাখ বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন নুরুল হক নুর।
পরিদর্শনকালে পটুয়াখালী ইপিজেড নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।