
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকায় এক কৃষকের পাকা ধান কেটে দেওয়ার ঘটনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ধান কাটার সময় দলীয় স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে তৎপর হয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে পদ্মা তীরবর্তী কুন্ডেরচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জন তরুণ জাতীয় পতাকা, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পতাকা হাতে ধানক্ষেতে অবস্থান করছেন। এ সময় তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন এবং পরে এক কৃষকের ধান কেটে নছিমন গাড়িতে তুলে দেন।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। ধান কাটার কাজে সহযোগিতা করায় স্থানীয় এক কৃষককেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে শোনা যায়।
ঘটনার বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশ দেখেছে। ঘটনাস্থল ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের নেতারা অনেকটাই আড়ালে চলে যান। সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্রকাশ্যে তেমন কর্মসূচি দেখা না গেলেও বিভিন্ন সময়ে ঝটিকা মিছিল, স্বল্প সময়ের সড়ক অবরোধ এবং দলীয় কর্মসূচির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পর্যায়ের এক ছাত্রলীগ নেতা দাবি করেন, মামলা ও হামলার আশঙ্কায় অনেক নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।