
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লো, যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরে একটি কুয়েতি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুয়েত সরকার অভিযোগ করছে, ইরানের সরাসরি আঘাতে জাহাজটিতে আগুন লাগে এবং এতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। হামলার ফলে তেল ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, দুবাই বন্দরের নোঙর এলাকায় থাকা কুয়েতি ট্যাংকার ‘আল-সালমি’ ইরানের “সরাসরি ও অপরাধমূলক” হামলার শিকার হয়েছে। কুয়েত নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার সময় জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে তেল ভর্তি ছিল। আগুনে জাহাজের কাঠামোতে ক্ষতি হয়েছে।
কেপিসি আরও জানিয়েছে, আশপাশের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন ও বিস্তারিত তদন্তের কাজ চলছে।
দুবাই কর্তৃপক্ষও এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের সংবাদ অফিস জানিয়েছে, “সামুদ্রিক অগ্নিনির্বাপক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।” ঘটনাস্থলে থাকা ২৪ জন নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। পরে দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, জরুরি সেবা দল সফলভাবে ‘আল-সালমি’ ট্যাংকারের আগুন নিভিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন এই ট্যাংকারে হামলা ছিল তেলের জাহাজে দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তর-পশ্চিমে, ৩১ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি অন্য ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে, তবে তাতেও সবাই নিরাপদ ছিলেন।
এই হামলা বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ, কারণ জাহাজটি সম্পূর্ণ তেল ভর্তি ছিল এবং আগুন লাগার কারণে তেল ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
একই দিনে সৌদি আরবেও উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির পূর্বাঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনা এবং আল-খারজে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি প্রিন্স সুলতানকে লক্ষ্য করে ১০টির বেশি ড্রোন এবং ৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। রাজধানী রিয়াদেও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র: আল জাজিরা