
কুয়াকাটার সুনীল উপকূলে এবার ভেসে এলো এক দানবীয় সামুদ্রিক জলচর। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে প্রায় ৫৮ ফুট দীর্ঘ একটি বিশাল আকৃতির মৃত তিমি উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রাথমিক দর্শনে ‘বেলিন’ প্রজাতির বলে অনুমান করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (৩ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সৈকতের ঝাউবাগান এলাকার পূর্ব প্রান্তে প্রকাণ্ড এই তিমিটিকে কূলে আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপকূলীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে কুয়াকাটা সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় ভেসে আসা তিমিগুলোর মধ্যে এটিই আকারে সবচেয়ে বৃহৎ।
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরের দিকে কুয়াকাটা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে নীল সাগরে তিমিটি অলসভাবে ভাসছিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ‘উপকূল পরিবেশ রক্ষা (উপরা) আন্দোলন’-এর কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তিমিটি নিরাপদে কূলে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিমির দেহটি ইতিমধ্যে অর্ধগলিত রূপ নেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেটি টেনে আনা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দুপুরের দিকে জোয়ারের তীব্র স্রোতে ভেসে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝাউবাগান সংলগ্ন সৈকতে এসে পৌঁছায়।
উপরা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।" সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর এমন আঘাতকে গভীর উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যৎ বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্দেশ্যে এই বিশাল তিমির কঙ্কালটি সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণের জোর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, "বিষয়টি তদন্তে ঘটনাস্থলে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"