
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের সব কটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় তা বিপদসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী আরও পাঁচদিন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
রোববার (২১ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার মাত্র ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বাড়ছে, তবে এখনো তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও বাড়ছে। বর্তমানে জেলার প্রায় ৩৫টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক এরশাদ আলী বলেন, ‘গতকাল থেকে ধরলা নদীর পানি বাড়ছে। আমার এক বিঘা জমির সবজিক্ষেতে পানি উঠেছে। পানি আরও বাড়লে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।’
একই ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার পটল চাষি আইনুল মিয়া বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পটলের আবাদ করেছি। ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে, বাজারও ভালো। কিন্তু বৃষ্টি ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পটল ক্ষেত নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আগামী পাঁচদিন জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করারও সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।