
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় চাচাতো ভাই মো. রায়হান (২৯)কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় আদালতের পেশকার মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন কবীর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) উৎপল চৌধুরী আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রায়হান উপজেলার হাসানপুর মাস্টারবাড়ি এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ মার্চ বিকেলে করিমগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শেষে করিমগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বের হন। এ সময় তার চাচাতো ভাই মো. রায়হান কৌশলে তাকে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন।
পরবর্তীকালে ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দিলে রায়হান বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ওই ভিডিও এলাকার তিন যুবককে দেখান। বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী তার মা-বাবা ও স্বজনদের জানান। পরে ২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা করিমগঞ্জ থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে বুধবার দুপুরে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায়হান পলাতক ছিলেন। সরকারপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল হক।