
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি তৈরি পোশাক কারখানার পানি পান করার পর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অর্ধশতাধিক তৈরি পোশাক শ্রমিক। কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করার পরপরই একে একে শ্রমিকরা ঢলে পড়তে থাকলে পুরো কারখানাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালের দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ‘ড্রেসম্যান লিমিটেড’ নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
শ্রমিক ও কারখানা সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও শ্রমিকরা কারখানায় এসে নিজ নিজ কাজে যোগ দেন। এরপর তৃষ্ণা মেটাতে কারখানার সরবরাহ করা পানি পান করার কিছুক্ষণ পরই অনেক শ্রমিকের মধ্যে পেটব্যথা, তীব্র বমি, মাথা ঘোরা, শারীরিক দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্টের মতো বিভিন্ন মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে পুরো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন বন্ধ করে অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, কারখানার ওই পানি থেকে বেশ দুর্গন্ধ আসছিল। কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেই পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। তাদের দাবি, ধীরে ধীরে এই অসুস্থতার প্রকোপ শতাধিক শ্রমিকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে কারখানার পানিতে কোনো ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এজিএম (প্রশাসন) আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত সোমবার টানা বর্ষণের পর আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শ্রমিকরা পানিতে ডুবে যাওয়া কলের পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কারখানার পানিতে কোনো সমস্যা আমরা পাইনি। তিনি আরও জানান, তাদের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পাঠানো হয়েছে জানিয়ে কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, পানি পান করে বেশকিছু শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা অসুস্থ হয়েছে তারা এখন পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।