
ভোলার মনপুরায় এক কলেজ অধ্যক্ষকে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট সদর উপজেলা মডেল মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়া অভিযোগ করেছেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. কামাল উদ্দিনের নির্দেশেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। মহিউদ্দিন মিয়া বর্তমানে ভোলা নাজিউর রহমান কলেজে কর্মরত। এর আগে তিনি মনপুরা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
রোববার রাত ১১টার দিকে মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে তারা দাবি করেন, মহিউদ্দিন মিয়া মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ থাকার সময় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সেলিমকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করেছিলেন। সেই ঘটনার জেরেই সেলিম অধ্যক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর সঙ্গে যুবদল বা স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তারা।
অধ্যক্ষের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় তাদের দলের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন মনপুরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব হোসেন হাওলাদার।
তারাও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চাকরিচ্যুত কর্মচারীকে ঘিরেই বিরোধের সূত্রপাত
ঘটনার বিষয়ে জানা যায়, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়া তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো. সেলিমকে চাকরি থেকে বাদ দেন। চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে পরে সংবাদ সম্মেলন করেন সেলিম।
এই চাকরিচ্যুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রোববার রাতে মডেল মসজিদে মহিউদ্দিন মিয়ার সঙ্গে সেলিম ও তার স্বজনদের কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তারা সাবেক অধ্যক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় মহিউদ্দিন মিয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
নামাজ শেষে হামলার অভিযোগ অধ্যক্ষের
অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, অসুস্থ বাবাকে দেখতে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মনপুরায় এসেছিলেন। মডেল মসজিদে নামাজ আদায়ের পর হাদিসের তালিম শেষে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা তার ওপর হামলা করে তাকে আহত করেন।
এই হামলার পেছনে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. কামাল উদ্দিনের নির্দেশ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
‘চাকরিচ্যুতির বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে, মারধর নয়’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের চাকরিচ্যুত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সেলিম।
তিনি বলেন, তাকে কেন অবৈধভাবে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে সাবেক অধ্যক্ষের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। তবে সেখানে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সেলিমের দাবি, বরং মহিউদ্দিন মিয়া তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার ওপর হাত তোলেন।
বিএনপি নেতারও অভিযোগ অস্বীকার
মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. কামাল উদ্দিনও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তিনি বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের চাকরিচ্যুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অধ্যক্ষের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই ঘটনায় বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন বলেও দাবি করেন ডা. কামাল উদ্দিন।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।