
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ ইসহাক সরকার জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। দলটির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এনসিপি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা দলটিতে যোগ দিচ্ছেন। রোববারও এবি পার্টি ও আপ বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন নেতা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতার সঙ্গেও যোগাযোগ করছে তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত দলটি।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব গণমাধ্যমকে বলেন, ইসহাক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোববার সকালে ইসহাক সরকার বলেন, “আমি এনসিপিতে যোগ দিতে পারি। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে।”
মোহাম্মদ ইসহাক সরকার একসময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।
তবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে ঢাকা-৭ (লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সেখানে বিএনপি প্রার্থী হামিদুর রহমানের কাছে পরাজিত হয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
রাজনীতিতে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় আসেন। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মামলা ও হামলার শিকার হন বলেও তার অনুসারীরা দাবি করেন।
বর্তমানে তার এনসিপিতে যোগদানের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।