
রাজনৈতিক আদর্শগত সংঘাত এবং দলের রণকৌশল নিয়ে তীব্র মতদ্বৈততার জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
আজ রোববার (১৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি দল ছাড়ার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন।
সর্দার আমিরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একজন সাবেক ছাত্র এবং একসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন।
কেন এই আকস্মিক দলত্যাগ?
নিজের ফেসবুক পোস্টে এনসিপি ছাড়ার বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করে সর্দার আমিরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘গত বছরের জুন মাসে এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে মধ্যপন্থী রাজনীতির নয়া শক্তি হিসাবে এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে ডানপন্থী জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত আমার উৎসাহ উদ্দীপনাকে ম্রিয়মাণ করে। তবে এই সিদ্ধান্তকে রণকৌশল বিবেচনা করে জোট থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দলের পক্ষে কার্যক্রম অব্যাহত রাখি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়েও দলে ডানপন্থার বাড়ন্ত লক্ষ্য করি। ফলশ্রুতিতে শেষ দুই মাস রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকি এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা বরাবর পদত্যাগপত্র পেশ করি। তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে আমাকে পুনর্বিবেচনা করতে বলেন।’
‘সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে’
দলের বর্তমান নীতিনির্ধারণী পন্থার প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক এই ছাত্রনেতা তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এনসিপির যে প্রতিশ্রুতিতে আকৃষ্ট হয়ে আমি যুক্ত হয়েছিলাম বর্তমানে দলের কার্যক্রমে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গের এই পরিস্থিতিতে এবং দলের রণনীতি ও রণকৌশলের সঙ্গে মতদ্বৈততা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার পক্ষে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না। এনসিপির প্রতি শুভকামনা রইলো। খোদা হাফেজ।’
মূলত মধ্যপন্থী রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে গঠিত এনসিপি যেভাবে ক্রমাগত ডানপন্থী ধারার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তা মেনে নিতে না পেরেই তিনি গত দুই মাস যাবত দলের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন।