
টেলিভিশন সাংবাদিকদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সরে আসতে বাধ্য হয়েছে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)। গণমাধ্যমকর্মীদের তুমুল আপত্তির মুখে জারি করার মাত্র এক দিনের মাথায় আলোচিত সেই বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
আজ সোমবার (১৮ মে) অ্যাটকোর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামের যৌথ স্বাক্ষর সংবলিত এক প্রাতিষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, "গত ১৭ মে অ্যাটকোর পক্ষ থেকে ভুলবশত অনাপত্তিপত্র সংক্রান্ত যে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে আর কোনো জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়।"
এর আগে গত রবিবার (১৭ মে) দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে নিয়োজিত সংবাদকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদানের প্রক্রিয়াকে কঠিন করে একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছিল অ্যাটকো। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, কোনো কর্মী তার বর্তমান কর্মস্থলের আনুষ্ঠানিক অনাপত্তিপত্র বা ছাড়পত্র (রিলিজ লেটার) প্রদর্শন করা ছাড়া অন্য কোনো টিভি চ্যানেলে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
সেই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, ছাড়পত্র বা এনওসি ব্যতিরেকে কোনো কর্মী যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দেন, তবে তা চাকরিবিধির চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ওই কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হতে পারে।
টেলিভিশন মালিকদের এমন কঠোর ও একপেশে সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ হতেই গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মূলধারার সাংবাদিক সংগঠন এই নিয়মের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ লিপি পাঠায়। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গণমাধ্যম মালিকদের এই ভূমিকার সমালোচনা করে সাধারণ সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে চারদিক থেকে আসা ব্যাপক পেশাদারী চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হলো টেলিভিশন মালিকদের শীর্ষ এই সংগঠনটি।