
দেশের ক্ষমতার ভারসাম্য জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনার সুযোগ সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, প্রকৃত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নাগরিক পদক-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি গণভোটে অংশ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘যদি সত্যি সংস্কার চান তাহলে উত্তরটা আমাদের “হ্যাঁ” বলতে হবে।’ তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘নির্বাচনের দিনে যে দ্বিতীয় ভোটটা দেবেন, সেটা হচ্ছে গণভোট। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষমতার যে বাঁক আছে, সেই বাঁকটাকে শাসকগোষ্ঠীর থেকে জনগণের দিকে বাঁক খাওয়ানোর একটা সিদ্ধান্তের সময়। এই গণভোটে অবশ্যই সবাই অংশ নেবেন এবং যদি সত্যি সংস্কার চান তাহলে উত্তরটা আমাদের হ্যাঁ বলতে হবে।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি “হ্যাঁ” না বলি, চুপ করে বসে থাকি, নিষ্ক্রিয় থাকি বা “না” বলি, তাহলে ক্ষমতার যে ভারসাম্যটা আনার প্রয়োজন এই সমাজে, সেই ভারসাম্যটা আনার সুযোগটা আরও অনেক বছরের জন্য হয়তো আমরা মিস করে ফেলব। কাজেই যে সংস্কারগুলোর প্রস্তাব করা হয়েছে, নিজেরা পড়বেন, বুঝবেন।’
উপদেষ্টা জানান, সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এগুলোর ব্যাপারে কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে অনেক প্রচারণা, অনেক ব্যাখ্যামূলক নোট প্রস্তুত করে আপনাদের দেয়া হচ্ছে। গণভোটে সবাকেই অংশ নিতে হবে এবং আপনার মতামত জানাতে হবে। যদি সংস্কার চান তাহলে গণভোটে যেতে হবে। সংস্কারের পক্ষে মতামত জানাতে হবে।’
তার বক্তব্যে গণভোটকে শুধু একটি ভোটদান প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।