
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশন কাউন্সিল (এসটিসি)।
গোষ্ঠীটির প্রেসিডেন্ট আইদারুস আল জুবাইদি শুক্রবার (২ জানুয়ারি) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে জানান, শুরু হচ্ছে দুই বছর মেয়াদী রূপান্তরকাল বা ক্রান্তিকালীন পর্ব। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, দক্ষিণ ও উত্তরের বিবাদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে।
জুবাইদি জানান, দুই বছরব্যাপী আলোচনার পর দক্ষিণাঞ্চলের স্বাধীনতার বিষয়ে গণভোট আয়োজন করা হবে। তবে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আলোচনায় অনীহা দেখায় কিংবা দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের ওপর হামলা হয়, তবে দুই বছর অপেক্ষা না করে স্বাধীনতার সাংবিধানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।”
ইয়েমেনের এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও আঞ্চলিক ক্ষমতার লড়াইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে তখনকার প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদী সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। হুথিদের দমন করতে ২০১৫ সালে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট গঠিত হয়।
বর্তমানে হুথিরা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চল রয়েছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল (ওয়াইপিসি)-এর হাতে। এসটিসি একসময় সৌদি জোটের মিত্র হলেও পরে নিজস্ব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আলাদা হয়ে যায় এবং ২০২২ সালে হাদ্রামৌতসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এসটিসির ঘনিষ্ঠতা ইয়েমেন সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত কয়েক বছর ধরে আমিরাত এসটিসিকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়টি সামনে আসার পর ৩০ ডিসেম্বর সৌদি আরব আমিরাতকে ইয়েমেন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।
আমিরাত ইতিমধ্যেই তাদের সব বাহিনী সরিয়ে নিয়েছে। এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এসটিসির স্বাধীনতার ঘোষণা ইয়েমেনের অখণ্ডতা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা