.png)
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দেশটিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নতুন সামরিক সহায়তা চেয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রেসিডেন্ট রাশেদ আল-আলিমি প্রকাশ্যে এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি)-এর ক্রমবর্ধমান দখল এবং হুতিদের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সংকট সামাল দিতে সৌদি আরব ইতিমধ্যেই ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম প্রদেশ হারদামাউতে এসটিসির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
ডিসেম্বরের শুরু থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যখন এসটিসি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করতে শুরু করে। বর্তমানে হারদামাউত ও আল-মাহরার বেশিরভাগ অঞ্চল এসটিসির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সৌদি আরব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসটিসিকে দখলকৃত অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি সতর্ক করে বলেন, “যদি এসটিসি তাদের দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখে, দেশের মধ্যে গভীর বিভাজন দেখা দেবে এবং হুতিরা সহজেই এসব এলাকা দখল করতে পারবে।”
এসটিসি মূলত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, যারা ইয়েমেনকে ভেঙে ১৯৯০ সালের পূর্বের মতো দুটি অংশে বিভক্ত করতে চায়। তারা দক্ষিণাঞ্চলকে নিয়ে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাহিনীর ওপর আক্রমণ জোরদার করেছে, যা সৌদি আরবের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিয়াদ প্রশাসন মনে করছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা চলতে থাকলে ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ আরও জটিল হবে এবং হুতিদের দমন কঠিন হয়ে উঠবে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং বিমান হামলা বৈধ সরকারের টিকে থাকার প্রধান ভরসা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের অর্ধেক অংশ হুতি বিদ্রোহীদের দখলে থাকলেও বাকি অংশে পিএলসি ও এসটিসির মধ্যে চলা সংঘাত দেশটিকে ধ্বংসের সীমানায় নিয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি সৌদি আরব ও মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন হারদামাউত ও আল-মাহরার নিয়ন্ত্রণ সরকারি বাহিনীর হাতে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপ ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং হুতিদের হাতে নতুন এলাকা পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।