
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার, প্রার্থী ও এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল ফোন বহন বা কোনো ধরনের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি সচিব বলেন, “ভোটাররা মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। একইভাবে প্রার্থী ও তাদের এজেন্টরাও মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন এবং কেন্দ্রের ভেতরে ছবি তুলতেও পারবেন। তবে গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন নেওয়া বা ভোট প্রদানের ছবি তোলা কোনোভাবেই অনুমোদনযোগ্য নয়।”
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল। “রাজনৈতিক দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আজ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে এসেছিলেন। তাদের প্রধান উদ্বেগ ছিল মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে। এখানে কিছুটা মিস কমিউনিকেশন হয়েছে। আমরা যা বোঝাতে চেয়েছিলাম, তা লিখিতভাবে সেভাবে প্রতিফলিত হয়নি,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কিছু বিধিনিষেধ থাকবে, যা নির্বাচন কমিশন চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আরও জানান, এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক উপস্থিত থাকছেন। মোট ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। এছাড়া ৬০ জন আমন্ত্রিত অতিথি রয়েছেন। তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও জর্জিয়া থেকে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা এসেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে আল জাজিরা, রয়টার্স, ডয়চে ভেলে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করবে।
সংস্থাভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ২২৩ জন, কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১২ জন প্রতিনিধি থাকছেন বলে জানান তিনি।
ব্যালট পেপার সংশোধনের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ফরিদপুর-১ এবং বরগুনা আসনের ব্যালট পেপারে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ায় তা ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী রয়েছে এবং আগামীকাল সকাল থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল প্রচারণাও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।
নির্বাচনি সহিংসতা প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তবে দুটি প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি বলেন, মিছিল-মিটিংয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থাকাটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ, তবে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক বক্তব্যগুলো শালীনতার মধ্যেই রয়েছে।
ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ফলাফল বিলম্বিত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ব্যালট গণনায় যে সময় লাগে, সেটাকে দেরি বলা যাবে না। ভোট গ্রহণ ও ফলাফল নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইসি সচিব।