আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে ১১ দলের জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও সেই সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের উপস্থিতি থাকবে না। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আপাতত তারা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার আজ দুপুরের জরুরি বৈঠকে আসন সমঝোতায় যুক্ত হওয়া বা না হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।
জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় আসন সমঝোতার সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ স্বাক্ষরিত মিডিয়া ইনভাইটেশনে বলা হয়েছে, আজ বিকেল ৪:৩০টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে (২য় তলা) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ জানান, “এখানো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গত রাতে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আমরা মতামত নিয়ে রেখেছি। এই মতামতের আলোকে আমরা কি করব আজ হয়ত সিদ্ধান্তটা হতেও পারে।” তিনি আরও বলেন, “আজ বাদ জোহর ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।”
ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সংবাদ সম্মেলনের জন্য কোনো দাওয়াত পাননি এবং পূর্বে জোটের সঙ্গে পরামর্শও করা হয়নি। দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, “এরকম সংবাদ সম্মেলনের দাওয়াত আমরা এখনো পাই নাই, শুনি নাই। আমাদের সঙ্গে পরামর্শও করা হয় নাই। তাই আপাতত সিদ্ধান্ত সেই সংবাদ সম্মেলনে থাকছে না ইসলামী আন্দোলন।”
এক শীর্ষ নেতা আরও জানিয়েছেন, রাতের বৈঠকে আসন সমঝোতায় যুক্ত হওয়া বা না হওয়ার নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। তিনি বলেন, “বৈঠকে বিভিন্ন পরামর্শ এসেছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ দুপুরে কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”
তিনি আরও যুক্তি দেন যে, পূর্বের বিভিন্ন সরকারের সময়ে আসন সমঝোতার প্রস্তাব থাকলেও তা কখনও গ্রহণ করা হয়নি। এবার ১১ দলীয় জোটের মধ্যে কিছু অনিয়ম এবং সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে, যা দূরত্ব তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের পথচলা শুরু হয়েছিল সমঝোতার ভিত্তিতে। সবাই মিলে পরামর্শ করে প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত নেব। কিন্তু শেষের দিকে বিষয়টি ভিন্ন লাইনে চলে গেছে। জোটের সবার সঙ্গে পরামর্শ না করে কিছু দলকে আসন দেওয়া হয়েছে। এই আসন কার থেকে দেওয়া হলো? এগুলো চিন্তা না করে এটা কেন করা হয়েছে। এটার এখনো ব্যাখ্যা আমরা বুঝতে পারিনি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসন সমঝোতার চেয়ে এখন জোটের মধ্যে সমমনা ও সমঝোতার মানসিকতা বজায় রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। “এত ভুল, একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত, সংশয়, সন্দেহ সৃষ্টি হলো। এভাবে আমরা চলতে থাকলে সামনে আরও বড় কোনো ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে,” তিনি সতর্ক করেন।