.jpg.webp)
গত অক্টোবরে ইসরায়েল থেকে পরিচালিত 'দ্য অ্যাঙ্কর' নামের একটি পডকাস্ট শো'তে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি বক্তব্য মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের পর আবারও সামনে এসেছে। নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পুনরায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আগ্রাসনের বিপক্ষে সমালোচনা করা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের সমালোচকেরা "আধ্যাত্মিক অন্ধকারে" রয়েছেন এবং যারা এই মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছে, তারা শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত- অন্ধ হয়ে গেছেন।
'দ্য অ্যাঙ্কর' পডকাস্টে ইসরায়েলি উপস্থাপক আমির সারফাতির সাথে একটি লাইভ পডকাস্টের সময় তিনি এসব মন্তব্য করেছিলেন।
বিহোল্ড ইসরায়েল কর্তৃক ২৩শে অক্টোবর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক সারফাতি, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে ইউরোপের নমনীয়, মধ্যপন্থী বা যুদ্ধবিরোধি ভূমিকার প্রসঙ্গে হাকাবির কাছে প্রশ্ন করেন।
তিনি জানতে চান, ইউরোপীয় সরকারগুলোর এমন ভূমিকার পেছনে কোনো মানসিক বা আধ্যাত্মিক সমস্যা আছে কিনা।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাকাবি বলেন, “আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে, বিদ্যমান সুস্পষ্ট ভূ-রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর চেয়েও আরও গভীর কোনো বিষয় রয়েছে,”
হাকাবি বলেন, আমার মনে হয় এটা একটা আধ্যাত্মিক বিষয়। আমি জানি একজন রাষ্ট্রদূতের মুখে এভাবে কথা বলাটা একটু অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু দেখুন, আমি এটাকে আধ্যাত্মিক অন্ধকার এবং আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব হিসেবে দেখি। কারণ, শয়তান তাদের মনকে অন্ধ করে দিয়েছে এবং তাদের চিন্তাভাবনাকে বশীভূত করেছে।
ইরান কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি, এ সংক্রান্ত আলোচনায় হাকাবি যেকোনো মার্কিন হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সন্দিহান থাকার জন্য ইউরোপীয় সরকারগুলোর তীব্র নিন্দা করেন।
‘দ্য আমেরিকান কনজারভেটিভ’-এর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক 'অ্যান্ড্রু ডে' হাকাবির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যারা যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, তাদের সম্পর্কে একজন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এভাবে কথা বলা অনুচিত।
“আমি জানি একজন রাষ্ট্রদূতের এভাবে কথা বলাটা একটু অদ্ভুত শোনাচ্ছে,” হাকাবির এই বাক্য উদ্ধৃত করে অ্যান্ড্রু ডে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “হ্যাঁ, তা তো বটেই!”
অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরাও হাকাবিকে কূটনৈতিক পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর এবং ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টান হাকাবি ইসরায়েলের একজন কঠোর সমর্থক।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীনদের শোচনীয় পরাজয়, যুদ্ধ এবং এর রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এসব মন্তব্য সামনে এসেছে।
রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুল ফজল শেখারচি বলেছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবি ইরানকে পরাজিত করতে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য মতে, শেখারচি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঘটনাবলী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার মিত্রদের ধারাবাহিক পরাজয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দৃশ্যমান উত্থান-পতনের চেয়ে বরং আরও গভীর একটি বৃহত্তর, অনস্বীকার্য বাস্তবতার প্রতিফলন: শক্তিশালী ইরানের ইচ্ছার কাছে পরাজয়।”
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত ক্ষয়, অভ্যন্তরীণ সংকট এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত হয়েছে এবং এই বিপর্যয়গুলো মার্কিন শক্তির ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে।
শেখারছি আরও বলেন, বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য কখনোই আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর সুবিধা অনুযায়ী গড়ে উঠবে না- এই সত্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ তাদের কৌশলগত পরাজয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর এই মন্তব্যগুলো করা হয়, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয়েরই নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন স্থায়ী এক হুমকির মুখে পড়েছে। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে যেমন সম্ভাব্য পতনের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে, একইসাথে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি ও ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়ন করাও কঠিন হয়ে উঠবে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণের ফলে বাধা ও তীব্র বিতর্কের মুখে পড়বে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। ফলে আগামী দুই বছর মার্কিন সরকার টালমাটাল এক সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাবে।
পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তার দলের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে, যদিও তিনি সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তকে অব্যাহতভাবে সমর্থন করে যাচ্ছেন।
সূত্র: মিডিল ইস্ট আই