
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই আগামী মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং দুই দেশের সমন্বয় নিয়ে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে নেতানিয়াহু সোমবার (২৭ জুলাই) সরকারি সফরে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এটি হবে ওভাল অফিসে দুই নেতার সপ্তম বৈঠক। ট্রাম্পের সঙ্গে অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার তুলনায় নেতানিয়াহুর বৈঠকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে বর্তমানে ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট শিবির, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু মহল এবং ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (মাগা) সমর্থকদের একটি অংশের কাছেও নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। সম্ভাব্য এ অভিযান ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হতে পারে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুই নেতার বৈঠককে সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কৌশলগত সমন্বয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর আসন্ন ওয়াশিংটন সফরকে ঘিরে বিশ্লেষকদের ধারণা, তার সফরের আগে ইরানে বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম। তবে অতীতের বিভিন্ন সংকটের সময় সামরিক পদক্ষেপের আগে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উচ্চপর্যায়ের সফরের ঘোষণা দিয়েছিল বলেও আলোচনায় এসেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি নেতানিয়াহু প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়ও অংশ নেবেন।
এর আগে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে সময়সূচি পাননি। পরে তিনি জানান, গ্রাহামের শেষকৃত্যের সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে তার সফরও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে জানান, সম্ভাব্য এই বৈঠক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল। বৃহস্পতিবার ট্রাম্পও বলেন, নেতানিয়াহু যদি গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে ওয়াশিংটনে থাকেন, তাহলে তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।