
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থামার বদলে আরও ঘনীভূত হচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে সামরিক প্রস্তুতিও। ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। সোমবার দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৮ মার্চ রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। সেই পরিকল্পনার আওতায় ইরানের ভেতরেও সেনা পাঠানোর মতো সম্ভাবনাকে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে পাঠানো এই প্যারাট্রুপাররা ইতোমধ্যে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনী, মেরিন এবং বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহেই অন্তত আড়াই হাজার মেরিন সেনা ওই অঞ্চলে পৌঁছায়।
যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা ঠিক কোন স্থানে এসব সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। তবে তারা বলেছেন, এই পদক্ষেপ পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এর প্রস্তুতি আগে থেকেই চলছিল।
কর্মকর্তাদের মতে, নতুন করে পাঠানো এই সেনাদের মধ্যে রয়েছে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তরের সদস্য, লজিস্টিক সহায়তা ইউনিট এবং একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই বাড়তি সেনা মোতায়েনের লক্ষ্য হচ্ছে ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুতি ও সক্ষমতা তৈরি রাখা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই মার্কিন সেনাদের বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স