
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরাক-এর নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নিজার আমেদি। শনিবার পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি বিজয়ী হন।
পার্লামেন্ট স্পিকার হাইবত আল-হালবুসি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে কুর্দি দল প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে)-এর প্রার্থী আমেদি ২২৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসান্না আমিন পান মাত্র ১৫ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন-এর পতনের পর তিনি দেশটির ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। ৫৮ বছর বয়সী আমেদি পেশায় একজন প্রকৌশলী এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০০৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তিনজন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।
ইরাকের রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদটি কুর্দি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। গত বছরের নভেম্বরে নির্বাচন হলেও কুর্দি দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে নির্বাচন দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। এই নির্বাচনকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শপথ নেওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে আমেদি ‘ইরাক ফার্স্ট’ নীতিতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন এবং সরকার, বিচার বিভাগ ও সংসদের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরাকে হওয়া হামলারও নিন্দা জানান।
এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নজর পড়েছে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের দিকে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্টকে ১৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটের মনোনীত ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা গঠন করে সংসদের আস্থা অর্জন করতে হবে।
উল্লেখ্য, শিয়া জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকি-কে এ পদে মনোনয়ন দিয়েছে, যা নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।