
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবার আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে তার পরিবার। এই বর্বরোচিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ফজলুর রহমানসহ মোট চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্বামী এবং কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এই অভিযোগ দাখিল করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং নিহতের স্বজনদের মাধ্যমে উঠে আসছে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের সম্ভাব্য কারণ। জানা গেছে, আসমা সাদিয়া রুনা সম্প্রতি সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করার একটি উদ্যোগ নেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিজ বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েই ফজলুর রহমান এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে এই নৃশংসতার পেছনে কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নাকি অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।
হত্যাকাণ্ডের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তটি ছিল গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগীয় কক্ষেই আসমা সাদিয়া রুনার ওপর অতর্কিত হামলা চালান ফজলুর রহমান। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে এই শিক্ষককে রক্তাক্ত ও নিস্তেজ করে ফেলার পর অভিযুক্ত ফজলুর নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য তৈরি করা এই ঘটনার পর দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করা ফজলুর রহমান বর্তমানে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিহত শিক্ষকের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে রুনার মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং তার নিজ গ্রামে এখন শোকের মাতম চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।